ফরিদগঞ্জে লবনের দাম বেশি নেয়ার অভিযোগে ৩ ব্যবসায়ী আটক, এক ব্যবসায়ী থেকে জরিমানা আদায়

নবী নোমান: লবন নিয়ে হুলুস্থুল চলছে। কিছু ক্রেতা বেসামাল হয়ে ফরিদগঞ্জের দোকানে ভীড়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে থেকে উপজেলার ফরিদগঞ্জ, রূপসা , চান্দ্রাসহ বিভিন্ন বাজারে নারী পুরুষ দল বেঁধে লবন ক্রয় শুরু করে। জনপ্রতি এক কেজি লবনের পরিবর্তে সকলেই তিন থেকে দশ কেজি পর্যন্ত লবন কেনা শুরু করে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে তার বিক্রি শুরু করে। বিকালে ফরিদগঞ্জ বাজারে মুদী দোকান ও ফ্রেশসহ বিভিন্ন কোম্পানীর গোডাউনে ভিড় করে লবন কিনতে দেখা গেছে। যদিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তাদের কাছে পর্যাপ্ত লবন মজুদ রয়েছে। কোন সংকট নেই। কিন্তু তারপরও ক্রেতাদের থামানো যাচ্ছে না। ফরিদগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী কবির হোসেন জানান, তার কাছ থেকে সকাল থেকে বিভিন্ন লোক লবন কেনা শুরু করে। তাদেরকে লবনের সংকট নেই বললেও তারা তা মানছেন না।
এদিকে থানা পুলিশ ও নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে লবন বিক্রির জন্য ৩জনকে আটক করা হয়। এর হলো : রূপসা বাজারের ব্যবসায়ী গৌতম সাহা, মহসিন ও গাজীপুর বাজারের ইব্রাহিম।
এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (ভুমি) মমতা আফরিন উপজেলার গাজীপুর বাজারে লবনের দাম বিক্রির অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৪ এর অনুযায়ী গাজীপুর বাজারের ব্যবসায়ী রতন সাহাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিকালে ফরিদগঞ্জ বাজারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আলী আফরোজ লবন নিয়ে গুজব বিষয়ে মানুষের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষে বাজার মনিটরিংয়ে বের হন। এসময় তার সাথে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুন্নবী নোমান, সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তীসহ প্রেসক্লাবের সংবাদকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় তিনি বিভিন্ন দোকানে গিয়ে লবন বিষয়ে গুজব বলে নিশ্চিত করেন। একই সাথে অতিরিক্ত দামে বিক্রি না করার জন্য অনুরোধ করেন।
এব্যাপারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ আলী আফরোজ জানান, একটি চক্র কৌশলে গুজব ছড়িয়ে এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। ইতিমধ্যেই সহকারি কমিশনার (ভুমি) মমতা আফরিন এবং থানা পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে তৎপর রয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে মাঠে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *