
রাজধানী, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ আলোকিত ফরিদগঞ্জ : সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধনসহ ৯ দফা দাবিতে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ছয়টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেয়। এর আগে, তাদের দাবি আদায়ের ল্েয তেজগাঁও থেকে নাবিস্কো মোড় পর্যন্ত বিােভসহ সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এদিকে, নগরীর পাঁচটি স্থানে দ্বিতীয় দিনের মতো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে বিআরটিএ। এতে নতুন আইনেই অভিযুক্তদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা।
দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা স্থিতিশীলতা এবং সমাজ ব্যবস্থা ও জনজীবনকে স্বাভাবিক গতিশীল রাখতে পণ্য পরিহন ব্যবস্থা গতিশীল ও সচল রাখার কোন বিকল্প নাই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্রাক-কভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এদিকে, গতকাল রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড পরিষদের দলীয় কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় শ্রমিক নেতারা তাদের এই দূর্বিসহ জীবন যাপনের কথা বলেন।
এ সময় সড়ক দূর্ঘটনা হ্রাস ও সড়কে শৃক্সখলা আনয়নে বাংলাদেশ ট্রাক-কভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক-ঐক্য পরিষদ মটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩ ইং এবং মটরযান বিধিমালা-১৯৮৪ ইং এর যুগোপযোগী পরিবর্তন করার দাবিও জানান মত্িবনিময় সভায় বক্তারা। তবে গত ১লা নভেম্বর-২০১৯ ইং থেকে কার্যকর হওয়া ‘‘সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮ইং’’ পবিরহন শিল্পকে ধ্বংসের একটি সু নীল নকসা এবং পরিবহন সংশিষ্ট বিশাল জনগোষ্ঠিকে বর্তমান স্তিতিশীল সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর পায়তারা বলে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এদিকে, মতবিনিময় সভায় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ইং সংশোধনের মধ্যে ৯টি দাবী তুলে ধরেন বক্তারা। দাবিগুলো হলো: ০১।সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ইং স্থগিত করে মালিক-শ্রমিকদের আয়ের সহিত সামাঞ্জস্যপূর্ণ জরিমানার বিধান ও দÊ উলেখ পূর্বক সংশোধন করে একটি যুগোপযোগী বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞান ভিত্তিক সঠিক আইন প্রণয়ন করতে হবে। ০২। বাংলাদেশ ট্রাক-কভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে ‘‘সড়ক পরিবহন উদেষ্টা কমিটি’’, ‘‘সড়ক পরিবহন আইন-শৃক্সখলা কমিটি’’ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত যে কোন পণ্যপরিবহন সংশিষ্ট কমিটিতে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ গ্রহনের জন্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
০৩। সড়ক দূর্ঘটনায় চালককে এককভাবে দায়ী করা যাবে না। সড়ক দূর্ঘটনাজনিত কোন মামলায় চালক আসামি হলে তা অবশ্যই জামিনযোগ্য ধারায় হতে হবে। তদন্ত সাপেে প্রকৃত দোষী নির্ণয় করতে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিগনকে সংযুক্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন পূর্বক সঠিক তদন্ত সাপেে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সড়ক দূর্ঘটনার মামলায় কোন গাড়ির মালিককে গ্রেফতার বা হয়রানি করা যাবে না। ০৪। বিআরটিএ কর্তৃক রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত নভেম্বর-২০১৯ ইং এর পূর্ব পর্যন্ত যে সকল পণ্য পরিবহন গাড়ি রপ্তানীযোগ্য পন্য পরিবহনের সুবিধার্থে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ্য, উচ্চতা নির্ধারণ পূর্বক তৈরি করা হয়েছে সে সকল গাড়ির মডেল থাকাকালীন অবস্তায় চলাচলের অনুমতি দিতে হবে। ০৫। সড়ক মহাসড়ক ও হাইওয়েতে গাড়ির কাগজপত্র চেকিং এর নামে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে। সকল জেলা টার্মিনাল ও ট্রাকষ্ট্যান্ডে অথবা লোডিং পয়েন্টে গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেকিং করতে হবে। বিআরটিএ কর্তৃক গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদ ও ডাইভিং লাইসেন্স থাকলে অযথা বিভিন্ন অযুহাতে পুলিশ কর্তৃক মামলা করা যাবে না। ০৬। সহজ শর্তে স্বল্প সময়ের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। হালকা পেশাদার লাইসেন্স দিয়ে ভারী যানবাহন চালানোর অনুমতি দিতে হবে। ০৭। সকল জেলা শহর ও হাইওয়ে মহাসড়কের পাশে, সিটি কর্পোরেশনের, পৌসভার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ীক স্তানে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধাসহ টার্মিনাল/ষ্ট্যান্ড নির্মান করতে হবে। টার্মিনাল নির্মানের পূর্বে রং পার্কিংয়ের মামলা দেয়া বা গাড়ি রেকারিং করা যাবে না। ০৮।সমগ্র বাংলাদেশে একই নিয়মে একই ওজনে ওভারলোডিং নিয়ন্ত্রন করতে হবে, মোটরযানের শ্রেণি বিন্যাস অনুযায়ী একটি বাস্তবসম্মত বোঝাইকৃত ওজন এর হার নির্দিষ্ট করে ওভারলোডিং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।
০৯। সড়ক-মহাসড়কে ৩০ মিটারের মধ্যে কোন স্তাপনা থাকা যাবে না। প্রতি ১০০ কিলোমিটার পর পর পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা পূর্ন বিশ্রামাগার সহ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। জনসাধারনের চলাচলের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত পরিমান ফুটপাত, ওভারব্রীজ, আন্ডারপাস, জেব্রাক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দীর গতির যানবাহন চলাচলের জন্য ভিন্ন লেন বা রাস্তা তৈরি করতে হবে। নসিমন করিমন ও ভটভটিসহ সকল রেজিষ্ট্রেশনবিহীন যান হাইয়েতে চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে। বক্তারা বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে সচল রাখতে দেশের সড়ক পথে পণ্য পরিবহনের সেবামূলক কাজে মালিক ও শ্রমিকগন সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে তারা বলেন ২০১৪ইং সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরবর্তীকালে সহিংস হরতাল, অবরোধের সময় জীবন ও সম্পদের ঝুকি নিয়ে দেশে ও জনগনের জীবন জীবিকার কথা বিবেচনা করে পন্য পরিবহনের মালিক শ্রমিকরা তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর এর ফলশ্রুতিতে অনেক শ্রমিককে জীবন দিতে হয়েছে, অনেক মালিক তার সম্পদ হারিয়েছেন তবুও তারা তাদের সেবামূলক কাজ থেকে বিরত থাকেন নাই বলেও জানান শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা। এসময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেম ট্রাক কভার্ডভ্যান পন্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এর আহবায়ক জনাব মোঃ র“স্তম আলী খান। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব মুকবুল আহেমদ, যুগ্ম আহবায়ক- আলহাজ্ব তালুকদার মোঃ মনির, যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব মোঃ নূর“ল ইসলাম, সদস্য সচিব মোঃ তাজুল ইসলাম, সদস্য জনাব হোসেন আহমেম্মদ মজুমদার, সদস্য- জনাব মোঃ নজর“ল ইসলাম (লিটন) এবং সদস্য আলহাজ্ব মাসুম পাটওয়ারী।