ফরিদগঞ্জে শারমিন আক্তার মালিহা নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদগঞ্জ উপজেলায় গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এর আগে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন পরিবারের লোকজন । শারমিন এক সন্তানের জননী তার স্বামী মাহিন প্রবাসে রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। গৃহবধুর স্বামীর পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে। এ ঘটনায় গৃহবধুর শশুর দেলোয়ার হোসেন ও শাশুড়ি রেনু বেগমসহ ৪ জনকে বিবাদী করে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে শারমিনের বাবা মো. মানিক। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ১৫ নং রুপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামের মুলাম বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।


শারমিন আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মো. মানিক মেয়েকে হাড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, শুক্রবার ভোর ৪ ঘটিকায় আমার মেয়ের শাশুড়ি মোবাইল ফোন থেকে কল দিয়ে আমাকে জানায়, শারমিন বিল্ডিং এর ফ্যানের সঙ্গে ফাঁসীতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। খবর শুনে সাথে সাথে ওই বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, শারমিন আক্তারের মরদেহ সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলানো তার পায়ের হাঁটু পযর্ন্ত বিছানায় পড়ে আছে। তিনি দাবী করেন, আমার মেয়ে ফাঁসী দেয়নি। পরিকল্পিত ভাবে আমার মেয়েকে খুন করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।


এক প্রশ্নের জবাবে শারমিনের বাবা বলেন, আমার মেয়ে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮ ঘটিকা নাগাদ নাস্তা তৈরী করে তার শ^শুর শ^াশুড়ি ও ননদকে দেয়া লাগে, সকালে তারা নামাজ ও পড়েন না। সাংসারিক কোন কাম করেন না। কিন্তু ভোর রাতে আমাকে মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ দেয়। আমার মেয়ে তো রাতে তার শয়ন কক্ষের দরজা বন্ধ করে ঘুমায়। তারা কি ভাবে জানলো আমার মেয়ে এতো রাতে আত্মহত্যা করেছে?
শারমিন আক্তারের মা এপ্রতিবেদককে জানিয়েছেন, বিয়েতে মেয়েকে স্বর্ণালংকার ছাড়াও, প্রায় ১ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র দিয়েছেন। বছর খানেকপর তাদের ঘর আলোকিত করে শাহরার ইসলাম মাহিন নামের এক পুত্র সন্তান জন্ম হয়। তাদের ঘরে আমার মেয়ের পুত্র সন্তান আসারপর থেকেই নাতিকে খুশি করার নামে যৌতুকের টাকার জন্য মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করে জামাই সহ তার পরিবার। এক পর্যায়ে মেয়ের সুখের জন্য ধারদেনা করে নাতিকে স্বর্ণের চেইন ক্রয় করে দেন। কিছুদিন পর পুনরায় বিভিন্ন অজুহাতে শারমিনের ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। এবার, জামাতার সঙ্গে যুক্ত হন তার শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, ননদ মর্জিনা ও রিমা। মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন থেকে রেহাই দিতে আমি বিভিন্ন সময়ে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে বেয়াই ও বেয়ানের হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা আমার অনুরোধ রাখেননি। তিনি দাবী করে বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে মেয়েকে আবারও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে শারমিন আক্তার মোবাইল ফোনে আমাকে জানিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে শারমিনের মা হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। উপযুক্ত বিচার দাবী করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে।
এদিকে, শারমিনের স্বামীর বাড়ির স্থানীয় কয়েকজন সচেতন জনগণ প্রকাশে (অনিচ্ছুক) তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শ^শুর দেলোয়ার হোসেন, শাশুড়ি রেনু বেগম, ননদ মজির্না ও রিমা বিভিন্ন অজুহাতে শারমিনকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করা হয়েছে। শারমিনের মৃত্যুর ঘটনা সঠিক তদন্ত পূর্বক উপযুক্ত বিচার হওয়া প্রয়োজন। তারা আরও জানিয়েছে, শারিমন মারা যাওয়ারপর থেকে তার শশুর দেলোয়ার,শ^াশুড়ি রেনু বেগম ও ননদ মর্জিনা, রিমা গাঁ ঢাকা দিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বাড়ীতে গিয়ে তাদের বসতবিল্ডিংয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন জানিয়েছেন, শারমিনের মৃত্যুতে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। শারমিনের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুরে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এর ভিত্তিতে পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *