
গতকাল ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ও নবগঠিত ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির যৌথ সভা ও উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি সভা শোল্লা আশেক আলী স্কুল এন্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ মোঃ ইউনুছ। সভা পরিচালনা করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি মজিবুর রহমান দুলাল। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ হান্নান। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান মফু, আব্দুল খালেক পাটোয়ারী, দেলোয়ার হোসেন সোহেল, উপজেলা বিএনপির সদস্য ডাঃ একে আজাদ, মহসিন মোল্লা, আব্দুল মতিন, মোঃ মজিবুর রহমান বকুল, মোঃ খসরু মোল্লা, ৪নং সুবিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মহসিন মিয়া, মোঃ নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, ফজলুর রহমান বাচ্চু, মোঃ বাদল ঢালীসহ অন্যান্যরা এবং নবগঠিত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দ।
সভার সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, আহ্বায়ক কমিটি ও ইউনিয়ন কমিটির সকল নেতা-কর্মী মিলে আগামী ২০ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে উপজেলা বিএনপির সম্মেলনকে সফল ও সার্থক করতে হবে। তিনি সম্মেলনকে সফল ও সার্থক করতে নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক সিদ্ধান্ত দেন। তিনি ৫ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে কথিত সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে আহ্বায়ক কমিটি ও ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমান সরকারের প্রতিহিংসায় কারাগারে চিকিৎসাহীনভাবে অসুস্থতার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। সেই সময় তারা আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কথিত সংবাদ সম্মেলনকারীরা উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলে, উপজেলা আহ্বায়ক মানে আমি চাঁদপুর ও ঢাকায় থাকি। ফরিদগঞ্জে আসি না। আমার বক্তব্য হলো, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ ফরিদগঞ্জের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে নিজে উপস্থিত থেকে কেন্দ্র ঘোষিত খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার রায় প্রত্যাহার ও আন্দোলন সংগ্রামে প্রত্যেকটি কর্মসূচি পরিচালনা করি। এরা তো কোনো কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন না। এজন্যে এরা আমাকে দেখার কোনো সুযোগ হয় না। আমার ২৮/৭/২০১৯ তারিখে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর ৩/৮/২০১৯ তারিখে জেলা সাংগঠনিক টিমের প্রধান সেলিমুস সালামের উপস্থিতিতে উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আহ্বায়ক কমিটির এই দুই-তিনজন কুচক্রী ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আহ্বায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সেই সভায় সকলের সম্মতিক্রমে সংগঠন বিরোধী কর্মকা-ের জন্যে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে পরীক্ষিত, ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কুচক্রী মহল কোনো ব্যক্তির ইশারায় দলের দুঃসময়ে দলের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক মিথ্যা, ভিত্তিহীন কাল্পনিক অভিযোগ আনেন। যা সর্বাংশে মিথ্যা এবং দলকে ধ্বংসের চক্রান্তে লিপ্ত থেকে সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলছে। যখন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এই সরকারের শত শত মামলা হালায় নির্যাতন নিপীড়নে মানবেতর জীবন-যাপন করছে, তখন এই আওয়ামী দালালদের বিরুদ্ধে কোনো মামলাতো নেই বরং আওয়ামী লীগের সাথে মিলে মিশে সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করছে। ফরিদগঞ্জ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে আলহাজ্ব এমএ হান্নান সাহেবের অর্থায়নে সকল মামলা পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নেতা-কর্মীদের দুঃখে-সুখে তদারকি ও খোঁজ খবর নিচ্ছে। আমি উপজেলা বিএনপির তৃণমূলের নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বলবো, এদের এই কালো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করুন। এরা যেনো আর কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বায়ন জানাই।