জমি দখলে বাঁধা দ‌েয়ায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা ভাইসচেয়াম্যানসহ আহত ৫

ফরিদগঞ্জে জমি দখলের সময় বাঁধা দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা পরিষদ ভাইসচেয়ারম্যান জি এস তছলিমসহ ৫জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া বাজারে এই ঘটনা ঘটে। আহত ভাইসচেয়ারম্যান সহ অন্যরা চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলায় আহতরা হলেন, উপজেলা ভাইচেরম্যানের বড় ভাই স্থানিয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের খোকন (৫২), মুক্তিযোদ্ধা আলী আহম্মেদের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৪৫), চরমান্দারী গ্রামের নুরুল হকের ছেলে মো: ছলেমান (২৮), রফিকুল ইসলামের ছেলে মো: মেহেদী হাসান তুষার (২০)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, ১৬ নং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া বাজার মুক্তিযোদ্ধা আলী আহাম্মেদের একটি ওয়ার্কশপের দোকান রয়েছে। দীর্ঘদিন পূর্বে একই এলাকার সিরাজ খানের পুত্র বেলায়েত খানের কাছে দেড় শতাংশ জমি ক্রয় সূত্র ভোগ দখল করে আসছে। কিন্তু তারা তাদের সেই বিক্রি করা জমি তাদের মালিকানা দাবি করে বেশ কয়েকবার জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য সহ বেশ কয়েকবার শালিশী বৈঠক হয়। তারই সূত্র ধরে গত ১০/১২ দিন পূর্বে মাসুদ খান বাচ্চু খান গংরা পুনরায় সেই জমি দখল করতে গেলে, স্থানীয়রা গত বুধবার শালিশী বৈঠকের মাধ্যমে তা মিমাংসা করবেন বলে নির্ধারন করেন। কিন্তু বাচ্চু খান ও মাসুদ খান তাদের পরিবারের লোক অসুস্থ বলে অযুহাত দেখিয়ে বুধবারের শালিশী বৈঠক শনিবার ৫ জুলাই বসার সিদ্ধান্ত করেন। এরই ফাঁকে শুক্রবার দুপুরে যখন সবাই নামাজ পড়তে মসজিদে যান, সেই সুযোগে তারা মুক্তিযোদ্ধা আলী আহম্মেদের জমি দখল করতে যান। এসময় আলী আহম্মেদের স্ত্রী মর্জিনা বেগম বাধা দিয়ে ডাক চিৎকার করলে নামাজ শেষে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জি এস তসলিম সহ আহতরা সেই জমি রক্ষার জন্য তাদের বাধা প্রদান করলে, মৃত বশির খানের ছেলে মাসুদ খান , বাচ্চ খান, সিরাজ খানের ছেলে বেলায়েত হোসেন খান, রাজিব খান, মোহন খানের ছেলে তুহিন খানসহ অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জন মিলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩জনকে আটক করেছে। এব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা আলী আহম্মেদ বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় শুক্রবার সন্ধ্যায় লিখিত অভিযোগ করেছে। এব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রকিব জানান, সংবাদ পেয়ে থানার পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *