চাঁদপুর ব্যুরো : মহামারী কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রার্দুভাবের ভয়াবহতা থেকে সর্বস্তরের মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাঁদপুর জেলা সদরসহ উপজেলাগুলোতে নিরলসভাবে কাজ করছে সেনাবাহিনী। এ সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল এলাকায় সাধারণ মানুষকে সচতেন করতে হ্যান্ড মাইকের সহায়তায় প্রচারণা চালান। পাশাপাশি গণজমায়েত এড়িয়ে চলার জন্যে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন তারা। চাঁদপুরসহ দেশের ৬২টি জেলায় সেনাবাহিনীর ৩০৫টি দল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। চাঁদপুরের দায়িত্বে আছেন কুমিল্লা সেনানিবাসের ৩-বি এর একাধিক দল। গত ২৪ মার্চ বেলা ১২টার সময় মেজর খায়েরের নেতৃত্ব সেনাবাহিনীর একটি টিম প্রথমে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্যে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিট পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে শুরু করেন এ জেলার করোনারোধক কার্যক্রম। টানা ৪৫দিন স্থানীয় সিভিল প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে মাঠে আছেন তারা।
দেশে বন্যা, আগুন ও সন্ত্রাসী কর্মকা- মোকাবেলায় যে কোনো বিপদে ডাক পড়লেই পাশে বন্ধুর মতো এসে দাঁড়ায় সেনাবাহিনী। আবার বিদেশের মাটিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন বন্ধু হেলমেটধারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় অনেকে জীবনও উৎসর্গ করেছেন। এবারও দেশে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে মাঠে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন সেনা সদস্যরা। এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব শুরু থেকেই পালন করে আসছে।
শুধু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলা নয়, সেনাবাহিনী জাতীয় জীবনের যে কোনো সঙ্কটকালে সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করে আসছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে একটি ভিন্নধর্মী প্রতিকূল পরিবেশেও সেনাবাহিনী দেশকে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে নিজেরাও ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
‘সেনাবাহিনী যতক্ষণ সরকার চাইবে ততক্ষণ নাগরিক সেবায় সহায়তা প্রদান করবে’ এমন দৃঢ় প্রত্যয় সেনা সদস্যদের। করোনার ধাক্কায় গোটা বিশ্ব যখন দিশেহারা তখন বাংলাদেশে পরিস্থিতি সামলে চলেছে দৃঢ়চিত্তে। চাঁদপুর শহর এলাকায় জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় কথা হয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন তুহিন রহমানের সঙ্গে। সূত্র: চাঁদপুর কণ্ঠ
ক্যাপ্টেন তুহিন রহমান চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আদেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে কাজ করছে মাঠে। আমাদের সাথে কাজ করছে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পুলিশ। আমাদের কাজ হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা এবং মানুষকে বুঝানো। এই কাজের জন্যে আমরা বাজারের রাস্তায় ভিড় এড়ানোর জন্যে মানুষকে বুঝাচ্ছি, মাইকিং করছি। আমাদের সাথে ম্যাজিস্ট্রেট আছেন। প্রয়োজনে যারা সরকারি নির্দেশনা মানছে না, তাদেরকে এবং অবৈধ দোকানগুলোকে জরিমানা করা হচ্ছে। মূলত আমরা চেষ্টা করছি মানুষকে বুঝানোর। এর সাথে আমাদের রেশন থেকে বাঁচিয়ে মাঝে মাঝে অসহায়দের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছি।