রুহুল আমিন খাঁন স্বপনঃ মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে সরকারের সচেনতা নির্দেশনা মানছেনা অনেকেই। ঢাকা থেকে ফরিদগঞ্জে বিভিন্নস্থানে আসা লোকজন বাসা-বাড়িতে না থেকে প্রতিনিয়ত তারা নিজ নিজ এলাকায় হাটবাজার ও গ্রামের মানুষের সাথে মিলে মিশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আড্ডা জমাচ্ছেন চায়ের দোকানসহ বাজার ঘাটে। কিছুটা স্বাস্থ্য সচেতন কয়েকজনের মুখে মাস্ক থাকলেও অনেকেরেই এসবের কোনো বালাই নেই। এতে করে ঝুঁকিতে রয়েছে গ্রামের খেটে খাওয়া ও স্থায়ী সাধারণ মানুষ।
রবিবার ২৯শে মার্চ উপজেলার খাজুরিয়া বাজারে বিকেল ৫টার সময় গিয়ে দেখা যায় মানুষের উপচেপড়া ভিড়। কেউ মাছ কিনছে, কেউ কিনছে সবজি। আবার অনেকেই পাশের চায়ে দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। কারোই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে কোন চিন্তা নেই। তাছাড়া রূপসাবাজার, বালীথুবাবাজার, পাটওয়ারীবাজার, একতাবাজার, মুন্সিরহাট, কড়ৈতলীবাজার, চৌরঙ্গীবাজার, শাহীবাজার সহ গ্রামাঞ্চলের চায়ের স্টল গুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।
করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতার লক্ষ্যে সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য গত ২৬ মার্চ সরকারি ভাবে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ছুটি ঘোষনা করা হয়। আর এই ছুটির সুযোগে ঢাকায় বসবাসরত বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজস্থানে না থেকে যার যার গ্রামের বাড়িতে ছুটে চলেন।
একই সাথে ঢাকা থেকে ফরিদগঞ্জে ও হাজার, হাজার মানুষ বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে আসেন। কিন্তু সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে নিজ, নিজ বাসা বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেয়া হলেও ঢাকা থেকে আগত ব্যক্তিরা তা না করে প্রতিনিয়ত গ্রামের মানুষের সাথে মিলে মিশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্বাস্থ সুরক্ষার জন্য যদিও নিয়ম রয়েছে প্রবাসীদের মতো তাদেরকে অন্তত ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। কিন্তু এসব অসচেতন ব্যক্তিরা ঢাকা থেকে গ্রামে ফেরার পরপরই অন্যান্য সময়ের মতো স্বাভাবিক ভাবে ঘুরাঘুরি করে বেড়াচ্ছেন, মনে হচ্ছে ঈদের আনন্দ।
তাদের এমন ঘুরে বেড়ানোর কারণে ছড়াতে পারে সংক্রমণ।
সচেতন মহলের দাবি প্রশাসন যেনো খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে আগত ব্যক্তিদের তালিকা সংগ্রহ করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তবেই একদিকে যেমন সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়িত হবে অন্যদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি কমবে বলে মনে করছেন চিকিৎসক মহল।
ছবিটি উপজেলার খাজুরিয়া বাজার দৃশ্য