
চাঁদপুর ব্যুরো : ‘মননে প্রগতি বুনি সৃজনে সমৃদ্ধি’ এ সস্নোগানে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীর আয়োজনে ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় পালিত হয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক চাঁদপুরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিনের ১৩১তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে ‘মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন : প্রগতির ধ্রুবতারা’ শীর্ষক সেমিনার ও সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হয়।
সাহিত্য একাডেমীর মহাপরিচালক কাজী শাহাদাতের সভাপতিত্বে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, নাসিরউদ্দীন শুধু একজন সম্পাদক ছিলেন তা বললে স্বল্প বিশেষায়িত হবে। তিনি তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার স্রোতের বিরুদ্ধের একজন সম্পাদক ছিলেন। যখন এ দেশে মুসলিমদের কোনো স্বাধীনতা ছিলো না, মুদ্রণে সত্য প্রকাশে প্রতিকূলতা ছিলো, চিত্র প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ছিলো, তখন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন চরম সাহসিকতায়, গভীর সতর্কতায় ভারত থেকে সওগাত পত্রিকা প্রকাশ করে নিয়ম ভেঙ্গেছেন, গড়েছেন ইতিহাস। কালের পরিক্রমায় যে ইতিহাস লেখা রবে স্বর্ণাক্ষরে।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু, নজরুল ও মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সাধনা এক এবং অভিন্ন ছিলো। দু’জনই স্রোতের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। নজরুলকে প্রেরণাদানের জন্যে নাসিরউদ্দীন যে ভূমিকা রেখেছেন তা নজিরবিহীন। আমি বিশ্বাস করি নাসিরউদ্দীনের শুধু স্মরণসভা করলেই হবে না, ভাস্কর্য নির্মাণ করলেই হবে না, নাসিরউদ্দীনের আদর্শকে অন্তরে লালন করতে হবে। তবেই আধুনিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুরো দেশকে পাল্টে দেবার দৃশ্যপট প্রমাণ দেয় তাঁর চেতনায় বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, নাসিরউদ্দীনের মতো মানুষরা আছেন বলেই তিনি সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন।
সেমিনাার উদ্বোধন করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান। তিনি বলেন, চাঁদপুরবাসী ভাগ্যবান এমন একজন মানুষের জন্ম এ মাটিতে হয়েছে। এমন একটি মহতী ও মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
সেমিনারে আলোচনা রাখেন কবি অসীম সাহার সহধর্মিণী কবি অঞ্জনা সাহা, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এএসএম দেলোয়ার হোসেন, লেখক ও গ্রন্থাগারিক তৃপ্তি সাহা এবং ‘বিরুদ্ধ স্রোতের নাসিরউদ্দীন’ গ্রন্থের সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমির অধ্যক্ষ, কবি ও প্রাবন্ধিক ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া এবং মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের জীবন পরিক্রমা পাঠ করেন চাঁদপুর বিতর্ক একাডেমির উপাধ্যক্ষ রাসেল হাসান।
গল্পকার ও সম্পাদক কাদের পলাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শহীদ পাটোয়ারী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও খ্যাতিমান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জীবন কানাই চক্রবর্তী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর। অনুষ্ঠানে বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা আবৃত্তি করেন চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের সভাপতি সামীম আহমেদ খান এবং চাঁদপুর বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জামশেদুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মোঃ দেলোয়ার হোসেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও চাঁদপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ, চাঁদপুর রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ মাহমুদা খানম, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ চাঁদপুরের সভাপতি মুক্তা পীযূষ, কালের কণ্ঠ শুভসংঘের চাঁদপুর শাখার সভাপতি লায়ন মাহমুদুল হাসান খান, টিআইবির এরিয়া ম্যানেজার মাসুদ রানা, সিকেডিএফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজন চন্দ্র দে, ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা নূরুল ইসলাম ফরহাদ, চাঁদমুখ সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ মহিউদ্দিন রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, সমকাল সুহৃদ সমাবেশের চাঁদপুর শাখার সহ-সভাপতি আবু সায়েম, সিকেডিএফ সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ প্রমুখ।
সন্ধ্যার পর শুরু হয় বিশেষ সাহিত্য আড্ডা। আড্ডায় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন আজিজ লিপন (রোদ পোহাবে কবে?), নিঝুম খান (আমরা মানুষ ছিলাম), ফাতেমা আক্তার শিল্পী (কবিতারা পাল্টে গেছে), হাছানুল কবির (মানবতা), ইয়াছিন দেওয়ান (লবণ), ইকবাল পারভেজ (কবিতা), ফয়সাল মৃধা (কবিতার সংসার), আরশাদ খান (চিত্তে বঙ্গবন্ধু), মুহঃ নূরে আলম (জীবন), তসলিম হোসেন হাওলাদার (ভিত্তি), শাহমুব জুয়েল (স্বপ্নগুলো কফিন হয়, পায়ের আওয়াজ), জাহিদ নয়ন (নাগরিক বিপ্লব), আনিছ আরমান (ভেজাল), রাসেল হাসান (আঞ্চলিক ছড়া : হেই কালের নবান্ন)। সবশেষে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা তাঁর দুটি কবিতা আবৃত্তি করেন। আর কবি অঞ্জনা সাহার কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার সামীম আহমেদ খান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক কাজী শাহাদাতের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।