
ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর কমিটির কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করেছে জেলা যুবদল। কমিটি স্থগিত করার সিদ্ধান্তে উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে চরম অসন্তোষ। গত ১৭ মে সোমবার রাতে জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন আকাশ এর যৌথ স্বাক্ষরিত পত্রে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নিদের্শনা মোতাবেক এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে, উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের নেতৃবৃন্দের একসূত্রে জানা যায়, বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় যুবদলের কর্মসূচীর স্থান নিধার্রণ নিয়ে উপজেলা বিএনপির সমন্বয়কারী এম এ হান্নানের সাথে মতবিরোধের জের ধরে মহসীন মোল্লা ও আ: মতিনের নেতৃত্বে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটি এবং একই সাথে পৌর কমিটিও স্থগিত করা হয়।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১ লা জানুয়ারী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর যুবদলের কমিটিসহ জেলার ১৫টি ইউনিট কমিটির অনুমোদন দেয়। এতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক হিসেবে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি , পৌর যুবদলের সাবেক আহবায়ক মহসিন মোল্লাকে , ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম নান্টুকে যুগ্মআহŸায়ক করে এবং জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্মআহবায়ক আ: মতিনকে সদস্য সচিব করে উপজেলা যুবদলের ৩৩সদস্য আহবায়ক কমিটি এবং পৌর যুবদলের আহবায়ক হিসেবে যুবদল নেতা ও পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটওয়ারীকে এবং নিবার্চনে কাউন্সিলর হিসেবে বিজয়ী আমিন গাজীকে সদস্য সচিব করে কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। পরে অবশ্য ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন শিপনকে উপজেলা যুবদলের যুগ্মআহবায়ক হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করা হয়।
কমিটির নেতৃবৃন্দ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের সাংগঠনিক সভা ও কমিটি গঠন কল্পে ৫টি সাংগঠনিক কমিটি করে। যারা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে সম্মেলনের মাধ্যমে ইউনিয়ন কমিটি করবে। কিন্তু হঠাৎ করেই গত ১৬ মে বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘটনা নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়।
বিএনপি ও যুবদলের বেশ কয়েকজন নেতা জানান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সমন্বয়কারী এম এ হান্নান তার বাড়ি ফরিদগঞ্জের শোল্লার বাসভবনে উপজেলা ও পৌর যুবদলের ব্যানারে বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। গত ১৬ মে শনিবার বিকাল ৪টায় এই অনুষ্ঠান আয়োজনের সময় নির্ধারণ করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপজেলা যুবদলের যুগ্মআহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম নান্টুসহ বেশ কয়েকজন নেতা এবং পৌর যুবদলের আহবায়ক ইমাম হোসেন পাটওয়ারীসহ পৌর যুবদলের বেশ কিছু নেতা অংশ গ্রহণ করেন।
অপরদিকে একই ব্যানারে প্রায় একই সময়ে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মহসিন মোল্লা ও সদস্য সচিব আ: মতিনের নেতৃত্বে উপজেলা যুবদলে এবং পৌর যুবদলের নেতৃবৃন্দ উপজেলা সদরের দলীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়ার অনুষ্ঠান আয়োজন করে। কিন্তু হঠাৎ করেই দলীয় অফিসে তালাবদ্ধ করে দেয়ায়, বাধ্য হয়ে তারা পাশ্ববর্তী একটি মাদ্রাসায় এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
সূত্র জানায়, উপজেলা বিএনপির সমন্বয়কারীর বাসভবনে না গিয়ে উপজেলা সদরে আলাদা অনুষ্ঠান কারণে তার নির্দেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান দুলাল দলীয় অফিসে তালা মারায় যুবদলের কর্মসূচী অন্যত্র অনুষ্ঠিত হয়।
ফরিদগঞ্জ পৌর যুবদলের আহবায়ক ও পৌরসভা নিবার্চনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটওয়ারী জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নির্দেশে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অভিভাবক এবং উপজেলা বিএনপির সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম এ হান্নান। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দলীয় ভেদাভেদ ভুলে সকলকে নিয়ে কাজ শুরু করেন। সর্বশেষ গত ১৬ মে তার উপস্থিতিতে তার বাসভবনে উপজেলা ও পৌর যুবদলের আয়োজনে বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে একই সময়ে উপজেলা সদরে একই ব্যানারে বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজন করার বিষয়টি হয়তবা যুবদলের জেলা ও কেন্দ্রের কাছে সঠিক মনে হয়নি। তাছাড়া দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনে পুলিশের অনুমতি না নেয়ায় সমস্যা হতে পারে ভেবে তিনি সেখানে তালা মারার নির্দেশ দেন।
উপজেলা যুবদলের যুগ্মআহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু জানান, আমরা উপজেলা বিএনপির সমন্বয়কারী এম এ হান্নানের উপস্থিতিতে বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে যোগদান করেছি।
এব্যাপারে উপজেলা যুবদলের আহŸায়ক মহসিন মোল্লা, কমিটির স্থগিতের ঘটনায় বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, যখনই উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক টিম গঠন করে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটির গঠনের পক্রিয়া চুড়ান্ত করণের পথে যাচ্ছি । তখনই অযাচিত হস্তক্ষেপে কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হলো। আশা করছি ফরিদগঞ্জে বিএনপির পুন:জাগরণের পক্রিয়াকে তরান্বিত করতে জেলা কমিটি স্থগিতাদেশ দ্রæত তাদের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবেন। ১৬ মে ঘটনার ব্যাপারে তিনি বলেন, ঈদের পরদিন ও দুরত্বের কারণে আমরা উপজেলা সদরেরর দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। তাছাড়া এম এ হান্নানের সাহেবের বাড়ীতে অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমাদেরকে ফোনে জানানো হয়। সমন্বয়হীনতা কোথায় তা চিহ্নিত করে সমাধান হওয়া উচিত। দলের মধ্যে ব্যক্তিস্বার্থ নয় দলীয় স্বার্থ যেন প্রাধান্য পায় সেটাই কামনা।
দলীয় কার্যালয়ে তালা মারার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান দুলাল জানান, উপজেলা বিএনপির সমন্বয়কারী এম এ হান্নান এর নির্দেশে দলীয় কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করি। তাছাড়া যুবদলের কমিটি বিষয়ে যুবদলের জেলা কমিটিই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন আকাশ জানান, সাংগঠনিক শৃংখলা ভঙ্গ জনিত কারণে কমিটির কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।
একই কথা জানিয়ে জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক জানান, সাংগঠনিক শৃংখলা ভঙ্গ জনিত কারণে কমিটির কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। তবে আশা করছি দ্রæত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হবে।