চাঁদপুরে হাবিব মৃধা হত্যার রহস্য উদঘাটন

(প্রেসব্রিফিং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সোহেল মাহমুদ পিপিএম)


ফরিদগঞ্জে পরকিয়ার বদলা নিতে হাবিব মৃধাকে গলায় রশি পেঁচিয়ে হাত পা চেপে ধরে ঘাতক সাইফুল, শ্যামল ও সিফাতসহ হত্যা করে। প্রধান ঘাতক রুবেল দুই পা ধরে রাখে হাবিব মৃধা। এভাবে শ^াস রোধ করে হত্যার পর পরকিয়া প্রেমের শত্রæ হাবিব মৃধার নিথর দেহকে ফেলে দেয়া পাশ^বর্তী বিলে। পরে খুনের শিকার হাবিরের ব্যবহৃত দুইটি মুঠো ফোন ও ফাঁস লাগানো রশিটি এনে পরকিয়া প্রেমিকা শিউলী আক্তারের বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেয় প্রধান ঘাতক রুবেল। অত:পর মুঠো ফোনে শিউলীর কাছে হাবিবকে শেষ করে ফেলার তথ্য দিয়ে পালিয়ে যায় ঢাকা প্রধান ঘাতক।
১১ আগস্ট (বুধবার) দুপুরে ফরিদগঞ্জ থানায় এএসপি সার্কেল এক প্রেসব্রিফিংয়ে হাবিব মৃধা হত্যাকাÐের রহস্য উদঘাটন পুর্বক এসব তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সোহেল মাহমুদ পিপিএম জানান, লাশ উদ্ধারের ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা খুনের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধান ঘাতক রুবেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিহত হাবিবের মুঠো ফোন উদ্ধারসহ অনেক আলামত জব্ধ করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের দুইদিনপর মঙ্গলবার(১০ আগস্ট) নিহতের ভাই আকরাম হোসেন বাবুল বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় এই পর্যন্ত মোট ৫জনকে আটক করা হয়েছে। এরা হলেন, মো: রুবেল (৩০), সাইফুল ইসলাম (৩৩), সিফাত উল্যা রাসেল(২৭) , পারভেজ হোসেন শ্যামল (২৬) এবং শিউলী আক্তার (২০)।
পুলিশ সূত্র জানায়, কুয়েত প্রবাসী ফারুক হোসেনের স্ত্রী ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের হর্নিদুর্গাপুর গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে শিউলী আক্তরের সাথে একই গ্রামের মৃত মনির মৃধার ছেলে হাবিব মৃধা এবং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে মো: রুবেল, হেজবুত উল্ল্যার ছেলে সিফাত উল্ল্যা রাসেলসহ বেশ কয়েকজনের সাথে পরকিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই পরকিয়ার সর্ম্পকের কারণে হাবিব মৃধা, রুবেল, রাসেলের সাথে দ্বন্ধ বাঁেধ। হাবিব মৃধা, রুবেল ও রাসেলকে শিউলীর জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে রুবেল হাবিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
গত ৪ আগস্ট বুধবার রাতে রুবেল হাবিবকে মুঠো ফোনে পাশের গুপ্তের বিলের ব্রীজের পাশে ডেকে নেয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রুবেলের সহযোগি সাইফুল ইসলাম লাইলনের রশি দিয়ে হাবিবের গলা পেঁচিয়ে ধরে। এসময় অপর সহযোগি রাসেল ও শ্যামল তার হাত চেপে ধরে এবং রুবেল পা চেপে ধরে। পরে শ^াসরোধ করে হত্যার পর তাকে গুপ্তের বিলে ফেলে দেয়।
পরে হাবিবের ব্যবহৃত মুঠো ফোন ও লাইলনের রশিটি শিউলী আক্তারের বাড়ির পাশের খালে ফেলে দিয়ে খুনের ঘটনাটি শিঊলী আক্তারকে মুঠো ফোনে নিশ্চিত করে রুবেল ।
পুলিশ আরো জানায়, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে সোমবার (৯ আগস্ট) প্রথমে শিউলী আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তার তথ্য মতে রুবেলকে ঢাকার উত্তরা থেকে ওই রাতে আটক করে মঙ্গলবার সকালে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি মতে মঙ্গলবার দিনভর অভিযান করে অপর তিন সহযোগি সিফাত, শ্যামল ও রাসেলকে তাদের এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার রাতে ডুবুরি দিয়ে শিউলী আক্তারের বাড়ির পাশের খাল থেকে হাবিরের একটি মুঠো ফোন উদ্ধার করা হয়।
প্রেসব্রিফিংয়ে এসময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শহীদ হোসেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রুবেল ফরাজী।
উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যায় (৮ আগস্ট) ফরিদগঞ্জ উপজেলার চর দুঃখিয়া পুর্ব ইউনিয়নের গুপ্তের বিল থেকে হাবিব মৃধার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ।
নিহত হাবিরের বড় বোন রোকেয়া বেগম জানায়, গত ৪ আগস্ট বুধবার দুপুরে হাবিব মৃধা মুঠো ফোনে কল পেয়ে চাঁদপুরস্থ তার আরেক বোন মরিয়মের বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। পরে বাড়ি থেকে এক দেড় কিলোমিটার দুরের গুপ্তের বিলে লাশ পাওয়ার সংবাদ শুনে এসে তিনি ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন। পরে দুইদিন পর নিহতের ভাই আকরাম হোসেন বাবুল বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

ক্যাপশন: ফরিদগঞ্জে হাবিব মৃধা হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন বিষয়ে প্রেসব্রিফিং করেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সোহেল মাহমুদ। পাশে ফরিদগঞ্জ ওসি মোঃ শহীদ হোসেন ও মামলার আইও রুবেল ফরাজী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *