ফরিদগঞ্জে আনন্দে ভাসছেন ঘর প্রাপ্তরা

মামুন হোসাইনঃ দু:খে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার দু:খ কিসের। কবির এই অমর কথাটি প্রযোজ্য তৃতীয় লিঙ্গের অধিকারীদের। আমরা যাদের হিজড়া বলে জানি। জন্মের পর থেকেই তাদের দু;খ শুরু , আর শেষ হয় মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে। তাও স্বাভাবিক নয়। তাদের দাফন কাপনে সমাজের লোকেরা এখনো বাঁধা হয়ে দাড়ায়। হিজড়ারা নিজেদের বাঁচাতে একত্রিত হয়ে জীবন ধারণ করে। যদিও তাদের অর্থ আয়ের পদ্ধতি নিয়ে বির্তক রয়েছে। তারপরও হিজড়ারা এখন নিজেদের বদলে ফেলতে চায়। সমাজের অংশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। সেই কাজের অংশ হিসেবে নিজেদের জন্য এক টুকরা জমি ও একটি বাড়ি তাদের স্বপ্ন। অবশেষে তাদের স্বপন পূরণ হলো মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভুমিহীনদের জন্য তৈরি করা ঘরের মধ্যে দিয়ে।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় আশ্রয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় তৈরি করা ২০টি ঘরের মধ্যে মাহমুদা হিজড়ার নামে একটি ঘর বরাদ্দ দিয়ে ইতিহাস গড়া হলো। সম্ভবত তৃতীয় লিঙ্গের কোন ব্যক্তি এই প্রথম ভূমিহীন জন্য বরাদ্দের ঘর পেলেন।
জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমানের বিশেষ আগ্রহ এবং নিদের্শনা অনুযায়ী হিজড়াদের ঘর প্রদান করে তা বাস্তবায়ন করেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শিউলী হরি।
শনিবার সরেজমিন ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের বাঘড়া বাজারের সিমেন্ট ঘাটের পাশে তৈরি করে ১৩ঘর পরিদর্শন করে দেখা যায়। বরাদ্দ প্রাপ্ত লোকজন নিজেদের মতো করে ঘর সাজিয়ে নিয়েছেন। ঘর প্রাপ্ত ফারুকুল ইসলাম, কান্না সুরে বলেন , আমরা সুখের দেখা পেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়ে মনে জীবনের শেষ বয়সে এসে সুখের দেখা পেয়েছি। আমাদের মাননীয় এমপি মহোদয়দে মহান আল্লাহ পাক সুস্হ রাখুক,পাশাপাশি আমরা ফরিদগঞ্জ বাসী এমন একজন নির্বাহি অফিসার পেয়ে ধন্য,যার অক্লান্ত পরিশ্রমে সঠিক বাছাই একটি ঘর পেয়ে সুখের দেখা পেয়েছি,তিনি সব সময় আমাদের খবর রাখেন,সব সময় একটি কথা বারবার বলেন আপনাদের যে কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাবেন,আমি যতদিন ফরিদগঞ্জ আছি আপনাদের সুখে দুঃখে পাশে থাকি,দুরে থাকলে ও আপনাদের জন্য আরো কিছু করার চেষ্টা করবো। অপর দিকে শাহানারা বেগম বলেন,আমরা অনেক ভালো আছি,আমাদের নির্বাহি অফিসার আমাদের সবসময় খবর রাখেন,প্রতি ১৫ দিন পরপর এসে দেখতে আসেন,এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর নিজে এসে দিয়ে যান। তিনি আরো বলেন, হিজড়ারা আমাদের সাথে থাকছে। এতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। ঈদের পুর্বে আমাদেরকে ইউএনও ঈদ উপহারসহ খাবার দিয়ে গেছেন।

মাহমুদা হিজড়ার ঘরে গিয়ে দেখা গেল, হিজড়া রেশমি হিজড়া ঘরের মধ্যে রান্না করছেন। ঘর পেয়ে আবেগে আপ্লুত মাহমুদা হিজড়া জানান, সাংবাদিক শফিকুর রহমান এমপি ও ইউএনও শিউলী হরির কারণে আমরা আজ ঘর পেলাম। বর্তমানে আমি মাহমুদা হিজড়া, মুধমালা হিজড়া ও রেশমি হিজড়া এখানে থাকি। আমরা আনন্দিত। আমি ইউএনওকে অনুরোধ করেছি আমাকে একটি বাড়তি রুমের ব্যবস্থা করে দিতে। যাতে আমরা সকলে একস্থানে থাকতে পারি। সে জানায়, ঘরগুলো খুবই ভাল হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ইউএনও বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসে আমাদের খোঁজ খবর নেন। শুক্রবার মিলাদ পড়িয়ে আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘরে উঠেছি।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শিউলী হরি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় আমরা ২০টি ঘর তৈরি করতে পেরেছি। সেই ঘর থেকে একটি ঘর এমপি মহোদয়ের বিশেষ আগ্রহে আমি তৃতীয় লিঙ্গের একটি পরিবারকে দিতে পেরেছি। আশা করছি সমাজের অবহেলিত এই সম্প্রদায়কে এভাবে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *