ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি: ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেন রিপনের বিরুদ্ধে একই পরিষদের মোঃ মাইনুল ইসলাম রাসেল, মোঃ জাহাঙ্গীর, মোঃ আনোয়ার হোসেন,মোঃ মোস্তফা পাটোয়ারী, রফিকুল ইসলাম বাচ্চুসহ মোট ৫জন ইউপি সদস্য একত্রিত হয়ে চেয়ারম্যান কর্তৃক সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে গত ৩ এপ্রিল চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের বরাবর অভিযোগ দেন।

অভিযোগ পত্র টি আর,কাবি খা,এল. জি. এস.ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে,জনগনের নিজেস্ব অর্থায়নে করা কালভার্ট ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ, প্রধানমন্ত্রীর ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয় ঘর বাবদ ৩,২৪,০০০ টাকা আসে সে টাকা দিয়ে ঘর না করে জনসাধারণ থেকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ঘর বিক্রি করে, করোনা কালীন সরকার দেওয়া মাস্ক বা অন্য উপকরণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা, হোল্ডিং টেক্স ২৭ লক্ষ টাকা রাজস্ব খাতে জমা না করে আত্মসাৎ করে।তা ছাড়া জম্ম নিবেন্ধন বাবদ ৩০০/ ৫০০ টাকা, ট্রেড লাইন্সেস, প্রতিবন্ধী / বয়স্ক/মাতৃত্বকালীন/ভিজিডি কার্ড বাবদ ৫ হাজার টাকা ও সরকারি টিউবওয়েল বাবদ ২০হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই সকল বিষয় ইউপি সদস্যগণ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হুমকি দেয়।

বিভিন্ন অভিযোগের সততা যাচাই করতে গেলে জানা যায় বরকন্দাজ বাড়ির সামনে শোচাগার তৈরির নাম দিয়ে ১ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে,কিন্তু ঐখানে ২০ বছর পযর্ন্ত কোন শোচাগার তৈরি করা হয়নি। কালিবাজার রাস্তা মেরামত বাবদ ২লক্ষ ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার কাজ করানো হয়েছে। ১৪ নং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম সোহেল কালিবাজার কলেজে ১লক্ষ ৮০হাজার টাকা প্রকল্পে দেন। কলেজের প্রধান শিক্ষক জানান আজ ২ বছর মাত্র আমি ১ লক্ষ টাকা পেয়েছি,বাকি টাকা এখনো পাইনি।যুবলীগের সভাপতি তুহিনের সঙ্গে কথা বললে জানা যায় আমার নামে বরাদ্দকৃত ৮০ টাকার বিনিময় ৭নং ওয়ার্ড বাবুলের নিকট বিক্রি করে।হর্নি দূর্গাপুর বাবুলের দোকানের পাশে কালভার্ট জনসাধারণগণ টাকা দেওয়া সত্যতা পাওয়া গেছি। আরো জানা যায়। কালিবাজার কৃষি ব্যাংক কর্তৃক জানুয়ারী থেকে জি,এস,পি হত দরিদ্র কর্মসূচী ভুয়া প্রকল্পের টাকা উত্তোলন শ্রমমজুরি অধিযাচন পত্র দেখা যায় ২৯৬ জন শ্রমিকে কাজ করে যাদের সকলের কালিবাজার কৃষি ব্যাংকে হিসাব খোলা রয়েছে, তার মধ্যে ভুয়া অনেকের নামে হিসাব নং খুলে টাকা আত্মসাৎ করে।কয়েক জন পরিবার ও শ্রমিক তাদের নামে দেখে অভিযোগ করেন আমরাতো কোন দিন ৪০ দিনের কর্মসূচীতে রাস্তার কাজ করি নাই, তাহলে আমাদের নামে ভুয়া হিসাব নাম্বার খুলে টাকা আত্মসাৎ করে মোঃ মমতাজ পিতা নুর মোহাম্মদ হিসাব নং ৮৮০৩,মোঃ কামাল পিতা আঃ আজিজ হিসাব নং ৮৮০৪,হাচিনা বেগম পিতা কামাল হিসাব নং ৮৮৯৯,মাসুদ আলম পিতা মোহাম্মদ উল্ল্যা হিসাব নং ৮৯৮২, তছলিম হোসেন পিতা নুর মোহাম্মদ হিসাব নং ৯৬৪৯ ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সভাপতি ২বছর যাবৎ প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত,নাছির আহমেদ পিতা মফিজুল হক হিসাব নং ৯৬৫৪ তিনি সৌদি প্রবাসী,আবু খা পিতা মৃত সেকান্দর খা হিসাব নং ৮৮০৫ তিনি মৃত্যু বরণ করেন ১৭.০৮.২০২০ খ্রীঃ এমন অনেক ভুয়া নাম দিয়ে টাকা উত্তোলন করেছে। কালিবাজার ব্যাংকের ম্যানেজার বলেন আমরা অভিযোগ পেয়ে টাকা উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছি। উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় ও তাকে দেখা যায় না।

ইউপি সদস্য মাইনুল ইসলাম ও মোঃ জাহাঙ্গীর জানান আমরা জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে, আমরা ভোটের আগে ভোটারদের যে কথা দিয়েছি তা রাখতে পারি না,চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপনের কারণে, তাকে আমরা বার বার বললে সে উল্টা আমাদের মামলার হুমকি দেয়। কোন সভা না করে নিজের বাড়িতে বসে সকল কাজ পরিচালনা করে, ঠিকমত পরিষদে পযর্ন্ত আসে না।

এই ব্যাপারে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন রিপন বলেন আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সম্পুর্ন মিথ্যা।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ আমির হোসেন সাথে কথা বললে তিনি অভিযোগ সম্পর্কে জানেন না,সাংবাদিকগণ অভিযোগ পত্র দেখালে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে চলে যান,তিনিও ফোন রিচিব করেন না।

এই বিষয় ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শিউলি হরি জানান আমি অভিযোগ পেয়েছি,তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *