বর্ষায় ফরিদগঞ্জ- রূপসা সড়ক জনদূর্ভোগ চরমে রূপ নিচ্ছে, কাজের ধীরগতির কারণ ওয়ার্কওয়ার্ডার না পাওয়া ও বৃষ্টি

আঃ ছোবহান লিটন:
সারাদেশে মানুষের মাঝে যেমন করোনা আতংক। তেমনি আরেকটি আতংকের নাম ফরিদগঞ্জ- রূপসা সড়ক। আতংক নিয়েই বাধ্যহয়ে জন ও পরিবহন চলছে উপজেলার গুরুত্বপূর্ন এই সড়ক দিয়ে। সড়কটি সংস্কারের জন্য সরকারের নজর পড়লেও ভাগ্যদোষে দূর্ভোগ যেন শেষ হতে চায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর পর ৩ বার টেন্ডার প্রক্রিয়া করার পরও বিভিন্ন সমস্যায় তা আলোর মুখ দেখেনি। সর্বশেষ গত মার্চ মাসে ৪র্থ বার টেন্ডার পক্রিয়া শেষে ৫.৭৪ কিঃ মিঃ সড়ক ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মেসার্স কনটেমপরারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। প্রতিষ্ঠানের মালিক বলছেন, ওয়ার্কওয়ার্ডার না পাওয়া ও স্টিমিট কাটসার্ট এর কারণে কাজ শুরু হয়েও বন্ধ হয়ে আছে। তারপরেও রাস্তার অন্যান্য কাজ প্রতিদিন চলছে।
কিন্তু রাস্তার উন্নয়ন কাজের গতি কচ্চপ গতিতে হওয়ায় পূর্বাঞ্চলের মানুষের আতংক আরো বেড়ে যায়, কবে শেষ হবে এই দূর্ভোগ এলাকাবাসীর প্রশ্ন ?
দীর্ঘদিন এই সড়কের বেহাল দশার কারনে জনদূর্ভোগের যেন শেষ নেই। তাই সাধারণ মানুষ বলছে, সড়কতো নয় যেন মরণ ফাঁদ। এই সড়কে উপজেলার পূর্বাঞ্চল রূপসা, খাজুরিয়া, লাউতলী, আষ্টা, গুপ্টী, গল্লাক এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত উপজেলা সদর, জেলা সদর সহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়াও এই সড়কে ফরিদগঞ্জ থেকে খুব সহজে হাজিগঞ্জ ও রামগঞ্জ যাওয়ার একমাত্র সড়ক। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত এই সড়কটি ভেঙ্গে বড় বড় গর্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কেন্দ্র, কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতাল উপজেলা সদরে অবস্থিত। এই সড়কের বেহাল দশার কারনে সাধারণ মানুষ রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। দীর্ঘ দিন থেকে চলাচলের অনুপযোগী এই সড়কে চলতে গিয়ে প্রায়ই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সড়কের বেহাল দশার কারনে দূর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকে পুঙ্গত্ব জীবন যাপন করছে। এছাড়াও সড়কে চলতে গিয়ে জনসাধারনের কাছ থেকে সাধারণ পরিবহনে আদায় করে নিচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রীরা চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রমজান মাসের শুরুতে রাস্তার কাজে বেকু ব্যবহার করে শুরু করলেও কাজ আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দূর্ভোগ আরো বেড়ে যায় জনগণের।
মেসার্স কনটেমপরারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রোপাইটর আমির আজম রেজা, জনদূর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমি টেন্ডার পক্রিয়া শেষে জামানতের টাকা জমা দিয়েই কাজ শুরু করি । সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছ থেকে এখনও আমি কাজটি ওয়ার্কওয়ার্ডার পাইনি এছাড়াও স্টিমিট কাটসার্ট এর কারণেও তার বিলম্ভ হচ্ছে। বৃষ্টির বাঁধার পরেও রাস্তা পাশ বাড়ানোর কারণে সাইড ওয়ালসহ আনুসাংঙ্গিক কাজ চলছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে পুরোদমে কাজ চলবে।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ড. জিয়াউল ইসলাম মজুমদার জানান, জনগনের দূর্ভোগের বিষয়টি আমারা অবগত আছি। বর্তমানে করোনা আতংক, প্রতিনিয়ত বৃষ্টি এবং জুন মাসের কারণে চলমান কাজে ধীরগতি চলছে। আমাদের টীম ওয়ার্ক সার্বক্ষনিক ঠিকাদারের সাথে কাজ করছে। মালামাল সরবরাহ ও গাইড ওয়ালের কাজ চলছে। আশা করি জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে দ্রুতগতিতে কাজ শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *