
চাঁদপুর ব্যুরো : মা ইলিশ রক্ষায় চলমান অভয়াশ্রমকালে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ শহরের বড় স্টেশন টিলাবাড়ি এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে। পুলিশ সে এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে অভিযান চালায়। আর প্রতিটি ঘর থেকেই নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করে। মাত্র তিন ঘন্টার এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল ও নৌকাসহ ১ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া ৫০ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
গতকাল শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের টিলাবাড়ি এলাকা ও ব্রীজ সংলগ্ন যমুনা রোড এলাকায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর নির্দেশনায় চাঁদপুর মডেল থানার ইন্সপেক্টর অপারেশন এবং কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার আব্দুর রবের নেতৃত্বে ইন্সপেক্টর আঃ রহিমসহ ৬জন এসআই, ৬ জন এএসআই ও বিপুল সংখ্যক স্পেশাল ফোর্স নিয়ে এ অভিযান চালানো হয়। এদিকে এতো ভোরে বিপুল পরিমাণ পুলিশ দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে হৈ-চৈ পড়ে যায়। পুলিশ দেখে অনেক অসাধু জেলে যে যার মতো পালিয়ে রক্ষা পায়। আবার অনেকে তখন নদীতে মাছ ধরায় ব্যস্ত ছিলো। তারা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পুলিশ টিলাবাড়ি ও যমুনা রোড এলাকায় প্রায় ৫০টি ঘরে তল্লাশি চালিয়ে খালে, নদীর পাড় এবং নৌকা থেকে ৩ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে এবং ১টি ইঞ্জিনচালিত জেলে নৌকাসহ আনোয়ার হোসেন, পিতা সিরাজুল ইসলাম বেপারীকে আটক করে। আটক আনোয়ার হোসেন পুলিশের নিকট মা ইলিশ ধরার বিষয়ে তথ্য দেন। পরে পুলিশ ৫০ জনকে আসামী করে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।
ফজরের নামাজ শেষে মুসলি্লরা পুলিশের আকস্মিক এমন অভিযান দেখে তারা সাধুবাদ জানান। তবে মুসলি্লরা জানান, মডেল থানার পুলিশ আকস্মিক অভিযান চালানোয় এ সফলতা এসেছে। আগে থেকে যদি জানাজানি হয়ে যেতো, তাহলে হয়তো পুলিশের এমন সফল অভিযান চালানো সম্ভব হতো না। এলাকার সচেতন মহল আরো জানান, সরকার মা ইলিশ রক্ষায় নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন মাছ ধরতে নিষেধ করে দিয়েছে। এজন্যে জেলেদের ভিজিএফ কার্ড দিয়েছে। তারা সরকারি চাল খায় এবং নদীতে মাছও ধরে। অভিযান পরিচালনার জন্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বরাদ্দও দিয়েছে। এ ব্যাপারে ইন্সপেক্টর আব্দুর রব জানান, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে বিভিন্ন সময়ে মা ইলিশ রক্ষায় প্রকাশিত বেশ কিছু সংবাদ আমাদের নজরে আসে। সেগুলো কাটিং করে তথ্য নেই। তবে ঘরে ঘরে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তল্লাশিকালে অনেকে পেছনের দরজা দিয়ে খালের মধ্যে জাল ফেলে দেয়, তা আমরা উদ্ধার করি।
এ ব্যাপারে কথা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরীর সাথে। তিনি বলেন, আমরাতো নদীতে নামতে পারবো না, সেখানে নৌ-পুলিশ রয়েছে। তবে জেলেপল্লীতে বস্নকরেইড দিয়ে যারা মা ইলিশ ধরছে এবং এ কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।