চাঁদপুর ব্যুরো: কিশোর গ্যাং’ বিষয়টি এখন দেশজুড়ে আলোচিত বিষয়। স্কুলপড়ুয়া বয়সী যেসব ছেলে বখে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে এখন এ ‘কিশোর গ্যাং’ বিষয়টি প্রয়োগ হচ্ছে। এরা নানা অপরাধ কর্মকা-ের সাথে জড়িত থাকে। আবার সমাজের নষ্ট প্রকৃতির কিছু লোক এসব কিশোরদের দিয়ে নানা অপরাধ কর্মকা- ঘটিয়ে থাকে। বিশেষ করে মারামারি করতে এসব কিশোর সিদ্ধহস্ত। এরা ভয়ঙ্কর ঘটনাও ঘটিয়ে ফেলে। চাঁদপুরেও এ কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় এদের বিচরণ তো থাকেই, শহরের চিহ্নিত কিছু স্পটেও এদের বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। সমপ্রতি চাঁদপুর সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র দেলোয়ারের উপর একদল কিশোরের অমানবিক হামলা এবং তাকে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনা কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি আবারো জোরালো আলোচনায় চলে আসে।
গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর শহরে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সামনে অঙ্গীকারে একদল কিশোর গ্যাংয়ের হাতে রক্তাক্ত জখম হন চাঁদপুর সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র দেলোয়ার হোসেন। তার অপরাধ ছিলো ওই কিশোর দল বখাটেরা একটি মেয়েকে উত্ত্যক্ত করছিল, আর দেলোয়ার তার প্রতিবাদ করেছে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে শুসান নামে এক চরম বখাটের নেতৃত্বে ওই কিশোররা দেলোয়ারের উপর হামলে পড়ে। তারা তাকে দেশীয় অস্ত্র এবং ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। তার মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায়ও জখম হয়। তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজের শত শত ছাত্র হাসপাতালে চলে আসে। হাসপাতালেই তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। শনিবার কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে দেলোয়ারের উপর হামলার দ্রুত বিচারের দাবিতে কলেজ ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে উঠে। কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশ নেয়। কলেজের শিক্ষকরাও এই বিক্ষোভের সাথে একাত্মতা পোষণ করে সমাবেশে এসে বক্তব্য দিয়ে তাদের দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয় অন্য সকল আসামিকে ধরার জন্যে। তবে ঘটনার রাতে ২ জন এবং পরদিন ১ জন আসামি ধরা হয়। অন্য আসামিদের আটকের প্রচেষ্টা চলছে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে মূল আসামি শুসান এখনো আটক না হওয়ায় ছাত্ররা এখনো ক্ষুব্ধ।
চাঁদপুর শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, অঙ্গীকার, সিএনজি অটোরিঙ্া স্ট্যান্ড, শহীদ মিনারের পেছনে রেললাইনের আশপাশে চায়ের দোকান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আশপাশ, মুখার্জি ঘাট, আল-আমিন একাডেমী সংলগ্ন মাঠ, পৌর ঈদগাহ, আউটার স্টেডিয়াম, মোলহেড, নতুনবাজার-পুরাণবাজার সেতু, গাছতলা ব্রিজ ও এর আশপাশ, পুরাণবাজার মেরকাটিজ রোড, হরিসভা রোড, রয়েজ রোড, পুরাণবাজার নতুন রাস্তাসহ আরো কিছু এলাকায় কিশোর গ্যাং গ্রুপে গ্রুপে ভাগ হয়ে আড্ডা দেয়। আর এই আড্ডা থেকেই নানা অপরাধের জন্ম নেয়। তারা কিছু থেকে কিছু হলেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে নেমে যায়। এ জন্য তাদেরকে কেউ কিছু বলতেও সাহস পায় না। দিনে-রাতে সবসময় তাদের এসব জায়গায় আড্ডা থাকে। আবার স্কুল-কলেজের সময় মেয়েদের স্কুল কলেজের আশপাশে কিছু বখাটে টিনএজ আড্ডা দেয়। তারা মেয়েদের সাথে ইভটিজিং করে। এর প্রতিবাদ কেউ করলে ওই বখাটেরাই তখন সন্ত্রাসী রূপে আবির্ভূত হয়। তবে এসব বখাটে এবং কিশোর গ্যাং সৃষ্টি হওয়ার পেছনে অভিভাবকরাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী বলে মনে করেন সচেতন অভিভাবকরা। তারা চাঁদপুরের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানিয়েছেন, এসব কিশোর গ্যাং এবং বখাটে টিনএজদের দমন করতে পুরো শহরে যেনো সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয় এবং এ অভিযান যেনো অব্যাহত রাখা হয়। তারা আরো কঠিন দাবি জানিয়েছেন যে, ওইসব কিশোর অপরাধী এবং বখাটে যারা পুনঃ পুনঃ আটক হবে, তাদের অভিভাবকদেরও যেনো পরবর্তীতে আইনের আওতায় আনা হয়।